Travel

কাউকে বিয়ে করার আগে কী কী বিষয়ে জানা উচিত?

কাউকে বিয়ে করার আগে কী কী বিষয়ে জানা উচিত?

মেয়ের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ টি বিষয়ে খোঁজ নিবেন। যথা,

  • মেয়ের ঘুমের টাইম। কখন কখন ঘুমায়?
  • মেয়ের নিজের কাজকর্ম কে করে দেয়? যেমন তার কাপর-চোপর কে ধুয়ে দেয়? বিছানা কে ঝেড়ে দেয়। খানা কে বেড়ে দেয়? ইত্যাদি।
  • মেয়ে তার মা বাবার কী কী খেদমত করে?
  • মেয়ের ব্যক্তিগত আমল ও আমলের সময়।
  • দুলাভাই, চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইদের সাথে কথাবার্তা বলে কিনা? বললে কিভাবে?

ছেলের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৭ টি বিষয়ে খোঁজ নিবেন।

১. ছেলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কোথায় পড়ে?

২. আয়ের কতটুকু বাড়িতে দেয়?

৩. সংসারের কোন কোন দায়িত্ব পালন করে?

৪. বাসায় মা বাবা কোন কোন ওষুধ সেবন করেন?

৫. বাসায় কখন ফেরে?

৬. ব্যক্তিগত আমল ও আমলের সময়।

৭. পরিবার ও সমাজের গায়রে মাহরাম নারীদের সাথে তার আচরণ কেমন?

কাউকে বিবাহ করার পূর্বে যা যা বিষয় ও জানা উচিত:

  • চেহারা অবয়ব দেখতে হবে
  • চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিতে হবে
  • শিক্ষা সম্পর্কে জানতে হবে
  • মেধা ও মননশীলতা সম্পর্কে জানতে হবে
  • বিয়েতে সম্মতি রয়েছে কি না সেটা জানতে হবে
  • ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে হবে
  • অন্য কারো সাথে রিলেশনশিপ রয়েছে
  • শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না জানতে হবে।
কাউকে বিয়ে করার আগে কী কী বিষয়ে জানা উচিত
কাউকে বিয়ে করার আগে কী কী বিষয়ে জানা উচিত
হিমছড়ি দর্শনীয় স্থান – খরচ সহ বিস্তারিত খুঁটিনাটি তথ্য

ইসলামিক হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

বিয়ে একটি ধর্মীয় বিষয়। তাই ধর্মীয় দিকনির্দেশনা মেনেই বিয়ে করা উচিত। যাতে জীবন বর্ণীল ও সুখময় হয়।

হাদীস শরীফে যে সকল গুনাবলীসম্পন্ন নারীকে বিবাহ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে; সেগুলো হলো—
১. দীনদার (ধার্মিক)।
২. উত্তম চরিত্র।
৩. সরলমতিত্ব।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নারীদেরকে (সাধারণত) চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। তার ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, তার রূপসৌন্দর্য এবং তার দীনদারী। তবে তুমি দীনদার নারী বিয়ে করো। অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হবে। ( বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৪৭)

আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ। আর দুনিয়ার মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোন সম্পদ নাই।” ( মুসলিম ও ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৮৫৫)

৪. কুমারীত্ব।
৫. মিষ্টভাষী।
৬. অল্পেতুষ্ট।

উতবাহ বিন উওয়ায়ম আল-আনসারী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “তোমাদের কুমারী মেয়ে বিবাহ করা উচিত। কেননা তারা মিষ্টমুখী, নির্মল জরায়ুধারী এবং অল্পতেই তুষ্ট হয়। ” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৮৬১)

৭. স্বামীভক্ত।
৮. মমতাময়ী আচরণ।
৯. অধিক সন্তান প্রসবকারিনী।

আবূ হুরায়রা ( রা:)
তিনি বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, উষ্ট্রারোহী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশ বংশীয়া মহিলারা সর্বোত্তম। তারা শিশু সন্তানদের প্রতি স্নেহশীল এবং স্বামীর মর্যাদার উত্তম রক্ষাকারিণী। ( সহিহ বুখারী , হাদিস নং ৫০৮২ )

মা’কাল ইবনে ইয়াসার ( রা:)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা পতিভক্ত ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী রমণীকে বিবাহ কর। ( আবু দাউদ ও নাসাঈ শরীফ)

১০. সৌন্দর্য।
১১. আনুগত্যশীল।
১২. আমানতদার।

আবু হুরায়রা (রা:)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে-ই, যার দিকে তাকালে সে তাঁর স্বামীর মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। কোনো আদেশ দিলে তাঁর আনুগত্য করে। নিজেকে এবং স্বামীর অর্থকে এমন কিছুতে জড়ায় না, যা স্বামী অপছন্দ করে। ( নাসাঈ শরীফ)

১৩. কুফু (সামঞ্জস্য)

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:
‘ আমি তোমাদেরকে শ্রেণীগত দিক থেকে কিছু মানুষকে কিছু মানুষের ওপর স্থান দিয়েছি। যেনো তোমরা একে অন্যের কাজে লাগতে পারো। ( সূরা যূখরুফ: আয়াত, ৩২ )

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‘ তোমরা তোমাদের প্রজননকোষের ব্যাপারে উত্তম সিদ্ধান্ত নাও; সামঞ্জস্য দেখে বিয়ে করো এবং সামঞ্জস্য দেখে বিয়ে দাও।

উপরে উল্লিখিত সকল গুনাবলীর মধ্যে— ধার্মিকতা প্রাধান্য পাবে। এরপর আখলাক-চরিত্র, আদব-কায়দা ও সৌন্দর্য সহ অন্যান্য গুনাবলী।

আর একজন আদর্শ পাত্রের জন্য যে গুনাবলী থাকা দরকার; সেগুলো হলো—
১. ধার্মিকতা।
২. উত্তম চরিত্র।
৩. আর্থিক অবস্থা।
৪. আচার-ব্যবহার ও সৌজন্যবোধ।
৫. চেহারা।

আমাদের বিয়েগুলো হবে ইসলামী বিয়ে। আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে। এই কামনা।

  • আল্লাহ তা’আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।

 

১) আপনার হবু জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী হোটেলে খেতে বসলে ওয়েটারের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে?

২) নিজের রুম থেকে বের হওয়ার সময় লাইট বা ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে কিনা?

৩) স্বাভাবিক কথা বার্তায় কতটা সরি বা ধন্যবাদ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে?

৪) মুঠোফোন কি তার জীবন নিয়ন্ত্রক না সে মুঠোফোনকে নিয়ন্ত্রন করে?

৫) সে নিজে কতটা এম্প্যাথেটিক?

৬) বস্তুবাদী হ্যাপিনেস কতটা তার আছে? ৭) ভালো দোকানে কফি পান করতে চান নাকি ভালো কফি যে কোনো জায়গা থেকে উপভোগ করতে চান ।

৮) সময় ব্যবস্থাপনায় কেমন পারদর্শী?

৯) দাঁত দিয়ে নখ কাটেন নাকি ?

১০) টেলিভিশনের রিমোর্ট যেখানে সেখানে ফেলে রাখেন কিনা?

১১) লিফটের চেয়ে বেশি সিঁড়ি ব্যবহার করেন কিনা?

১২) অবসর সময় কি ঘুমের মধ্যে না সৃজনশীলতায় ব্যয় করেন?

১৩) কোনো বই পড়া শুরু করলে শেষ করেন কি?

১৪) বাসায় কাজের মেয়ে থাকলে তার সাথে কেমন আচরন করে?

১৫) নিজের জন্য সাজ সজ্জা কেমন পছন্দ করে? বিউটি পার্লার যায় কিনা?

আরো এমন অনেক কিছুই হতে পারে যা আপনার চাহিদা এবং রুচির উপর নির্ভরশীল ৷

১. তিনি তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল।

২. নিজের রাগ,জেদ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

৩. মুখের ভাষা কতটা রুচিশীল। সুযোগ পেলেই গালাগালি শুরু করেন কিনা।

৪. কতটা মানবিক। নিজের অবস্থান থেকে আর্থিক,সামাজিকভাবে যারা কম ভালো অবস্থায় আছেন তাদের প্রতি ব্যবহার কেমন করেন। যেমন, ঘরের কাজে সাহায্যকারী মানুষ।

৫. অতিরিক্ত টাকা পয়সা ওড়ানো কিংবা কৃপণতা এই দুই স্বভাবের কোনটা আছে কিনা।

৬. বই পড়ার অভ্যাস আছে কিনা।

৭. নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করেন কিনা! যেমন, ঘুম থেকে উঠার পর নিজের বিছানা গুছানো, নিজের কাপড় ধোয়া, নিজের রুম গুছিয়ে রাখা, নিজের খাবার বেড়ে খাওয়া এসব পারেন কিনা। নাকি এক গ্লাস পানিও খাওয়ার জন্য অন্য কেউ ঢেলে দিতে হয়।

৮. হাসিখুশি কিনা।

৯. নিজের অবস্থান নিয়ে পজিটিভ কিনা। নাকি যা ই হোক হা-হুতাশ ছাড়া থাকতে পারেন না।

১০. ব্যক্তি স্বাধীনতায় কিছুটা হলেও বিশ্বাস করেন কিনা। অতিরিক্ত কর্তৃত্বপরায়ণ না তো!

১১. একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে ন্যূনতম শ্রদ্ধাটুকু করতে পারেন তো!

5/5 - (1 vote)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button