Travel

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়?

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়? টেকনাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি উপজেলা। এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলে আমরা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায় ও টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ও কক্সবাজারের দুরত্ব কত তা বিস্তারিত জানবো।

Table of Contents

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়?

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাবার উপায়
জাহাজে করে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘন্টা। জাহাজের ক্লাস ও মান অনুযায়ী সেন্টমার্টিন যাওয়া ও আসার টিকেট ভাড়া ৮৫০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। টেকনাফ জেটি ঘাট থেকে প্রতিদিন জাহাজগুলো সকাল ৯.০০-৯.৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার দুটি উপায় রয়েছে:

ট্রলার: টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য ট্রলার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। ট্রলারের ভাড়া জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা। ট্রলার টেকনাফের দমদমিয়া জাহাজ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রলারের যাত্রাটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় নেয়।
জাহাজ: টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য জাহাজও একটি ভালো মাধ্যম। জাহাজের ভাড়া জনপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা। জাহাজ টেকনাফের জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জাহাজের যাত্রাটি প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন:

টেকনাফ পৌঁছান। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন বা বিমানের মাধ্যমে যাত্রা করা যেতে পারে।
টেকনাফের দমদমিয়া জাহাজ ঘাট বা জেটি ঘাট থেকে টিকিট কিনুন। ট্রলার বা জাহাজের টিকিট কিনতে হলে আগে থেকেই টিকিট কাউন্টারে যোগাযোগ করুন।
ট্রলার বা জাহাজে উঠুন। ট্রলার বা জাহাজে উঠে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন।
সেন্টমার্টিন পৌঁছে রিসোর্ট বা হোটেলে চেক ইন করুন।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন:

সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য ট্রলার বা জাহাজের টিকিট আগে থেকেই কিনুন। বিশেষ করে, ছুটির দিনে টিকিট পেতে ভিড় হতে পারে।
ট্রলার বা জাহাজে উঠে জায়গা বুক করে নিন। ট্রলার বা জাহাজে যাত্রীদের সংখ্যা বেশি হলে জায়গা নাও পেতে পারে।
সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় সূর্য থেকে বাঁচার জন্য ছাতা বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
সেন্টমার্টিনে অবস্থানকালীন সময়ে সমুদ্র সাঁতার কাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।
টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের হিসাবে, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জাহাজের ভাড়া নিম্নরূপ:

কেয়ারি সিন্দবাদ জাহাজ: মেইন ডেক ১০০০ টাকা, ওপেন ডেক ১৩০০ টাকা, ব্রিজ ডেক ১৪০০ টাকা
কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন জাহাজ: এক্সক্লুসিভ লাউঞ্জ ১২০০ টাকা, কোরাল লাউঞ্জ ১৪০০ টাকা, পার্ল লাউঞ্জ ১৬০০ টাকা
এম ভি পারিজাত জাহাজ: মেইন ডেক ১০০০ টাকা, ওপেন ডেক ১২০০ টাকা
এম ভি রাজহংস জাহাজ: মেইন ডেক ১০০০ টাকা, ওপেন ডেক ১২০০ টাকা
এস টি সুকান্ত বাবু জাহাজ: মেইন ডেক ১০০০ টাকা, ওপেন ডেক ১২০০ টাকা
এম ভি বে ক্রুজ জাহাজ: ভিআইপি লাউঞ্জ ১২০০ টাকা, ব্রিজ ডেক ১৪০০ টাকা
জাহাজের ক্লাস এবং মান অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য হতে পারে।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জাহাজগুলি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলাচল করে। জাহাজগুলি টেকনাফের জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জাহাজের যাত্রাটি প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়।

টেকনাফ ভ্রমণঃ

টেকনাফ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা। টেকনাফের আয়তন ৩৮৮.৬৮ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার উত্তরে উখিয়া উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর।

টেকনাফ একটি পর্যটন এলাকা। এখানে রয়েছে সুন্দর সমুদ্র সৈকত, ঝর্ণা, পাহাড়, উপসাগর, দ্বীপ ইত্যাদি।

টেকনাফের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে:

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
নাফ নদী
নেটং পাহাড়
জলিয়ার দ্বীপ
বাহারছড়া ঝর্ণা
হোয়াইক্যং ঝর্ণা
সাবরাং লবণ ক্ষেত্র
টেকনাফের অর্থনীতি মূলত পর্যটন, মৎস্য ও কৃষি নির্ভর। এ উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে মৎস্য ও চিংড়ি চাষ হয়। টেকনাফের জনসংখ্যা ২,৬৩,৩৮৯ জন (২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। এর মধ্যে পুরুষ ১,৩২,৮৫৭ জন এবং মহিলা ১,৩০,৫৩২ জন। টেকনাফের অধিকাংশ লোক মুসলিম।

টেকনাফ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক। এছাড়াও, এখানে নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে।

টেকনাফ একটি উদীয়মান পর্যটন এলাকা। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ।

টেকনাফের দর্শনীয় স্থান
টেকনাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি উপজেলা। এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত।

টেকনাফের কিছু জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণগুলি হল:

সেন্টমার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, সেন্টমার্টিন তার স্বচ্ছ জল, সাদা বালির সৈকত এবং জীবন্ত প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিখ্যাত।
নাফ নদী: টেকনাফের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, নাফ নদী তার অপরূপ সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিখ্যাত।
শাহপরীর দ্বীপ: নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ তার ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
গর্জন বাগান: টেকনাফের কাছে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক উদ্যান, গর্জন বাগান তার সুন্দর পাহাড়, ঝর্ণা এবং বন্যপ্রাণীর জন্য বিখ্যাত।
তেঙ্গা চূড়া: টেকনাফের কাছে অবস্থিত একটি উঁচু পাহাড়, তেঙ্গা চূড়া তার অত্যাশ্চর্য দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
এছাড়াও, টেকনাফে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, যেমন টেকনাফ মসজিদ, টেকনাফ বৌদ্ধ বিহার এবং শাহপরীর দ্বীপের মসজিদ। টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রাও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন কত কিলোমিটার

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ৯ কিলোমিটার। তবে, এই দূরত্বটি পাড়ি দিতে ট্রলার বা জাহাজে করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য নিয়মিত ট্রলার এবং জাহাজ সার্ভিস চালু রয়েছে। ট্রলারের ভাড়া জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা এবং জাহাজের ভাড়া জনপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে নাফ নদী এবং বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণঃ

সেন্ট মার্টিন একটি দ্বীপ যা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার অন্তর্গত। এটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

সেন্ট মার্টিনের আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপটি দুটি অংশে বিভক্ত: উত্তর সেন্ট মার্টিন এবং দক্ষিণ সেন্ট মার্টিন। উত্তর সেন্ট মার্টিন বেশি জনবহুল এবং এখানে বেশিরভাগ পর্যটন স্থাপনা রয়েছে। দক্ষিণ সেন্ট মার্টিন অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল এবং এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশি।

সেন্ট মার্টিনের প্রধান আকর্ষণ হল এর সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দ্বীপটিতে রয়েছে সাদা বালির সৈকত, নীল সমুদ্র, প্রবাল প্রাচীর এবং ঝাউবন। এছাড়াও, এখানে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ এবং একটি প্রবাল সংরক্ষণাগার।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ কত কিলোমিটার

কক্সবাজার থেকে টেকনাফের দূরত্ব সড়কপথে ৮৬.৯ কিলোমিটার। সমুদ্রপথে দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার জন্য কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক ব্যবহার করা হয়। এই মহাসড়কটি বেশ ভালোভাবেই সংস্কার করা হয়েছে এবং গাড়িতে করে টেকনাফ যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে।

সমুদ্রপথে টেকনাফ যাওয়ার জন্য কক্সবাজার থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ট্রলার বা জাহাজে করে যাত্রা করা যায়। এই যাত্রাটি প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় নেয়।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কত কিলোমিটার

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সড়কপথে ৯১৪.৩ কিলোমিটার। এই দূরত্বটি পাড়ি দিতে গাড়িতে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লাগে।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া যাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পথটি অনুসরণ করা যেতে পারে:

টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে N1 মহাসড়ক ধরে যাত্রা করুন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে N1 মহাসড়ক ধরে যাত্রা করুন।
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে N3 মহাসড়ক ধরে যাত্রা করুন।
ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের উদ্দেশ্যে N5 মহাসড়ক ধরে যাত্রা করুন।
জামালপুর থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে N5 মহাসড়ক ধরে যাত্রা করুন।
রংপুর থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে N5 মহাসড়ক ধরে যাত্রা করুন।
দিনাজপুর থেকে তেতুলিয়া সড়ক ধরে তেতুলিয়া পৌঁছান।
এছাড়াও, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া যাওয়ার জন্য ট্রেন বা বিমানের মাধ্যমেও যাত্রা করা যেতে পারে। তবে, এই মাধ্যমগুলির মাধ্যমে যাত্রা করতে বেশি সময় এবং অর্থের প্রয়োজন হয়।

শেষ কথাঃ

টেকনাফ নাফ নদীর তীরে অবস্থিত। নাফ নদী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে প্রবাহিত একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এই নদীটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব শহর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। নাফ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। এই নদীটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। পাঠক আপনি যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই জানতে পেরেছেন টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়।

Rate this post

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button